উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: এলজিআরডিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, এমনভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়নের গতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে আবদুল মঈন খান বলেন, মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ সেবার সুফল পেতেন। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি হাওর অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী জাপান। দেশের উন্নয়নে জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান।

একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট’ (ইউডিসিজিপি) এবং ‘সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (এসসিআরডিপি)-এর অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের দ্বিতীয় পর্যায়’ (ইউজিডিপি-২)-এর কার্যক্রমেও সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তৃণমূলের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার তাগিদ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল মঈন খান বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার নেওয়া ও সমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন মন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে এ কমিটি কাজ করবে।

বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্ন্যান্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।