আশুলিয়ার জামগড়ায় ৫ রাউন্ড গুলি, টাকা লুট—হাসপাতালে দুইজন

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬

আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালুর পরও গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোরে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং এতে দুইজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার চিত্রশাইল-কান্দাইল এলাকার রাজাবাদশা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন আলামিন (৩০) ও পারভেজ (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আলামিন জানান, তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার এবং পারভেজ একটি দোকানের কর্মচারী। ভোরে পাওনা টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে জামগড়া এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন তারা। পথে মৃধা বাড়ি ঈদগাহ মাঠের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে তারা দুজনই আহত হন। পরে হামলাকারীরা প্রায় দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

আলামিনের দাবি, হামলায় জড়িতদের মধ্যে শুটার বাপ্পি, কামরুল এবং ভাদাইল এলাকার লেংরা রাসেলের নাম রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত শুটার বাপ্পি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার উত্তর পারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি একাধিক নামে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত লেংরা রাসেল (রাসেল মন্ডল) বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি থানার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও আশুলিয়া থানায় অস্ত্র, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম মৃধা বলেন, “ভোরে অন্তত পাঁচবার গুলির শব্দ শুনেছি। ঘটনাস্থলের একটি হোটেল খোলা ছিল, সেখানকার লোকজনও বিষয়টি দেখেছে।”

আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ আসে। গুলির চিহ্নও দেখা গেছে বলে শুনেছি।”

আহত পারভেজ মুঠোফোনে জানান, তার পায়ে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করেননি।

জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল আমাদের আওতাধীন কিনা তা নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাইনি।”

অন্যদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”