নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া:
ঢাকার আশুলিয়ার বুড়ির বাজার রোড এলাকায় ঘুমের ওষুধ সেবনের পর রোকসানা বেগম (৩৮) নামে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় একটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত রোকসানা বেগম দুই সন্তানের মা। তার বড় মেয়ে সেহানা আক্তার এবং ছোট ছেলে রায়হান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান।
অভিযোগ উঠেছে, আশুলিয়ার বুড়ির বাজার রোড এলাকায় অবস্থিত “আশ-শিফা মেডিকেল হল” নামের একটি ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করেছিলেন রোকসানা বেগম। পরিবারের দাবি, ফার্মেসিতে চিকিৎসক পরিচয়দানকারী মিজান নামের এক ব্যক্তি তাকে ওই ওষুধ দেন। সেই ওষুধ সেবনের পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
মৃতের বড় ভাই জানান, “আমার বোন ঘুমের ওষুধ খেয়ে মারা গেছে। আমরা জানতে পেরেছি, ওই ওষুধ স্থানীয় ফার্মেসি থেকেই নেওয়া হয়েছিল।”
এদিকে মৃত রোকসানা বেগমের ছেলে রায়হান অভিযোগ করে বলেন, “আমার মা ডাঃ মিজানের দোকান থেকে আনা ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যান।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশ-শিফা মেডিকেল হলের মিজান বলেন, “আমি প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ বিক্রি করি না। তবে তিনি নিয়মিত আমার ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিতেন। তার আগের প্রেসক্রিপশন সম্পর্কে ধারণা থাকায় হয়তো সেদিন নতুন করে প্রেসক্রিপশন নেওয়া হয়নি।”
তবে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে মিজান দাবি করেন, ঘটনার কয়েকদিন পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ হাফিজ উদ্দিন, সহযোগী সম্পাদক: খোকন হাওলাদার, প্রধান কার্যালয়: আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন) আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯ বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।
কপিরাইট © গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আবেদিত।